★
অপেক্ষার প্রহর শেষ। এ বছর রসায়নে আলোড়ন সৃষ্টিকারী নোবেল বিজয়ীরা কে/কারা?২০২০ এর রসায়ন বিজ্ঞানের সেই অসাধারণ গবেষকরা হলেন এমমানুয়েল চার্পেন্টিয়ার(৫১) এবং জেনিফার ডোডনা(৫৬)। রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি সায়েন্স রসায়ন /রসায়ন সংশ্লিষ্ট সেক্টরে অভূতপূর্ব আবিষ্কারের জন্য প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার প্রদান করে।এ বছর এম্মানুয়েল চার্পেন্টিয়ার ও জেনিফার ডোডনা জিনোম সম্পাদনার নতুন পদ্ধতি উন্নতির জন্য প্রথমবারের মত যৌথভাবে রসায়নের নোবেল সম্মাননা পেলেন।
জিন প্রযুক্তির অন্যতম ধারালো সরঞ্জাম CRISPR-Cas9 মূলত জিনগত কাঁচি।এই কাঁচি ব্যবহার করে গবেষকরা পশু,গাছপালা এবং মাইক্রোগ্যানিজমের ডিএনএ অত্যন্ত নির্ভূলতার সাথে পরিবর্তন করতে পারেন।চার্পেন্টিয়ার এবং ডোডনার এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই বৈপ্লবিক প্রভাব রাখতে সমর্থ হয়েছে।ক্যান্সার থেরাপিতে অবদান এবং সাথে সাথে বংশগতির রোগ যেমন 'সিস্টিক ফিব্রোসিস' এবং 'সিকেল সেল অ্যানিমিয়া'র মত রোগ নিরাময়ের মত স্বপ্ন সত্যি করতে পারে।
কোষের জিন লেভেলে পরিবর্তনের জন্য গবেষকদের অবশ্যই জীবন রহস্য তথা জীবনের ভেতরের জিন সিকোয়েন্স, কাজ জানতে হয় যেটা বেশ সময় সাপেক্ষ, কঠিন এবং মাঝে মাঝে প্রায় অসম্ভব কাজ ছিল।কিন্তু CRISPR/Cas9 জেনেটিক কাঁচি ব্যবহার করে এখন কয়েক সপ্তাহের মাঝেই জিন লেভেল জানা এবং পরিবর্তন সম্ভব।
২০১২ সালে চার্পেন্টিয়ার এবং ডোডনার CRISPR/Cas9জেনেটিক কাচির অভূতপূর্ব আবিষ্কারের ফলে এটা অনেক মৌলিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারে অবদান রেখেছে।যেমন,এটা ব্যবহার করে উদ্ভিদ গবেষকরা এমন ফসল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন যা মোল্ড,কীটপতঙ্গ এবং খরা প্রতিরোধ করতে পারে।
মানুষের ওপর প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি একটি তর্কের সৃষ্টি করলেও, এই আবিষ্কার কাজে লাগিয়ে মেডিসিন, নতুন ক্যান্সার থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে এবং মানবজাতির উত্তরাধিকারী রোগ বা বংশগতির রোগ নিরাময়ের স্বপ্ন বাস্তবে পরিণতি পেতে চলেছে।
ম্যাদাম মেরি কুরি ১৯১১ সালে রসায়নে প্রথম মহিলা নোবেল বিজয়ী যিনি নারীদের জন্য সেই যুগেই বিজ্ঞানের দুয়ার উন্মোচন করে গিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ CRISPR-Cas9 এর মত আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে এক নতুন অধ্যায়ে নিয়ে গেলেন দুই নারী গবেষক এম্মানুয়েল চার্পেন্টিয়ার এবং জেনিফার ডোডনা।
Jannatul Ferdous Nijhum
Dept. Of Chemistry
University Of Rajshahi

Comments
Post a Comment